যাত্রীকে মারধর করে পানিতে ফেলে হ,ত্যা চে,ষ্টা! ভাইরাল হওয়া ঘটনায় আটক-১

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় এক যাত্রীকে বেদম মারধর করে ট্রলার থেকে নদীতে ফেলে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদের মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের একটি খেয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে । ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এ ঘটনায় নির্যাতিত যাত্রীর মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেফতার করেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ খেয়া যাত্রীরা। ঘটনা ও মামলার বিবরনে প্রকাশ, অসুস্থ মা মাসুদা বেগমকে অর্থোপেডিক ডাক্তার দেখাতে গত ১৯ জুলাই জেলার মুলাদী পৌর এলাকা থেকে উজিরপুর যাচ্ছিলেন রাসেল হাওলাদার। মীরগঞ্জ খেয়া পার হওয়ার সময় তার কাছে বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয়। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকার করেন রাসেল। খেয়াটি বাবুগঞ্জ প্রান্তে মীরগঞ্জ ঘাটে পৌঁছার পর সব যাত্রী নামিয়ে দেয় খেয়ার লোকজন।

এ সময় রাসেলের কাছে ফের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে তারা। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকার করলে ইজারাদারের লোকজন রাসেলকে বেঁধে খেয়া ট্রলারে উঠিয়ে মাঝ নদীতে নিয়ে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে নদীতে ফেলে দেয় তারা। রাসেল সাঁতরে তীরে উঠতে চাইলে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে তারা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। দূর থেকে কেউ একজন পুরো ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। একজন খেয়া যাত্রী আবুল হোসেন জানান, জেলার মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের কয়েক লাখ মানুষ এই খেয়া পার হয়ে বরিশালে চলাচল করেন।

সবার কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায় করা হয়। এই খেয়ায় চলাচলকারী যাত্রীরা ইজারাদারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘাটে প্রচুর যাত্রী চাপ থাকলেও তারা সীমিত খেয়া ট্রলার পরিচালনা করে। এমনকি দুটি ফেরি থাকলেও তারা একটি ফেরি পরিচালনা করে। অথচ প্রতি দিন এই খেয়াঘাট পার হয় কয়েক হাজার মানুষ। মীরগঞ্জ খেয়াঘাটে বছরের পর বছর ধরে এই জুলুম চললেও প্রশাসন এবং পুলিশ থাকছে একেবারে নির্বিকার। আব্দুর রাজ্জাক নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন,

অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় মাঝ নদী থেকেও ট্রলার ঘুরিয়ে উল্টো পথে নামিয়ে দেয় তারা।তিনি জানান, এই ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা নতুন নয়। সবাই মান সম্মানের ভয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হন। প্রতিবাদ করলেই ইজারদারের লোকজন তাদের মারধর সহ নানাভাবে হেনস্তা করে। অভিযোগ রয়েছে ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি চেপে যাচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেন।

Check Also

আরও ২ মামলায় জামিন পেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাজধানীর গুলশান থানায় মাদক ও পল্লবী থানায় প্রতারণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *