মরমু তবুও রি,ক্সা চালামু না, এইবারের মতো ছাইড়া দেন স্যা,র

মহামারী করোনাভাইরাস থমকে দিয়েছে সারাবিশ্বকে। চলমান এ ভাইরাস একদিনে দু’দিনের সময় বেঁধে আসেনি। খুবই শক্ত করেই অভিশপ্ত হয়ে বসেছে পৃথিবীর উপরে। কেউ জানেনা এ ভাইরাস কতোদিন থাকবে? এর প্রকোপে শুধু প্রাণহানিই হচ্ছেনা, হচ্ছে মানহানি। একদিকে আতঙ্ক,আরেক দিকে মৃত্যুভয়। দফায় দফায় কঠোর লকডাউন বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন বরগুনার আমতলীর খেটে খাওয়া দিনমুজুর, অসহায় হতদরিদ্র ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা।

একদিকে রয়েছে দেশজুড়ে টানা লকডাউন অপর দিকে করোনা মহামারীর আতঙ্ক। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে জনসাধারণের অবাধ চলাচলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হলেই করছেন জেল-জরিমানা। তবে প্রশাসনের এই কঠোর বিধিনিষেধে বেকায়দায় পড়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষেরা। জীবিকার প্রয়োজনে রাস্তায় বের হয়ে কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাচ্ছেন না তারা। আবার যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় আমতলীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে রিকশা আটক করছে পুলিশ। লকডাউন ঘোষণার পর গত এক সপ্তাহ ধরে আমতলীর বিভিন্ন সড়কে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

টানা লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষের এখন দিন কাটছে হাহাকারে। করোনাভাইরাস তাদের আতঙ্ক নয়। তাদের ভয় পেটের ক্ষুধাকে। অনেকের হাড়িতেই চাল নেই। চুলায় জ্বলছেনা আগুন। মিজানুর রহমান জুয়েল। বয়স ৪৫ বছর। আমতলীর বিভিন্ন সড়কে মিশুক গাড়ি চালান তিনি৷ করোনার জন্য গত বছর থেকে আগের মতো আয় হচ্ছে না তার। গাড়ি চালিয়ে সাত জনের সংসারের অভাব, দূর্দশা মেটান তিনি। লকডাউনে প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধে ঠিকভাবে পারছেনা গাড়ি চালাতে। অভাবের সংসারে রয়েছে কিস্তির চাপও। গাড়ি না চালাতে পারলে জোটেনা খাবার। একই কথা বলছেন অটোরিকশা চালক একিন আলী।

তিনি বলেন, “বাড়িতে চাউল ডাইলের সমস্যা। অভাবের সংসার মোর। রোজ খাটি রোজ খাই। পেটের অভাবে বের হইছি রাস্তায়। আমার এতো জমিদারি থাকলে তো রাস্তায় বের হইতাম না। সকালে ইনকাম করেছি ১৩০ টাকা। মালিকের জমা আছে ৪০০ টাকা। দুপুর থেকে গাড়ি থানায়। আর গাড়ি চালামুই না।” কিছুটা ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, “যদি দেহেন লকডাউনে এই একিন আলী আর রিক্সা চালাইছে দরকার হলে মরমু তবুও রিক্সা চালামুনা। এইবারের মতো ছাইড়া দেন। সরকারের কোনো সহযোগিতাও পাইনাই।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *