টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে ‘মরণফুল’

টাঙ্গাইলের সার্কিট হাউজে রোপণ করা তালিপাম গাছে ফুটেছে ‘মরণফুল’। গাছটি ২০১২ সালের ১৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্যের বাসা থেকে এনে রোপণ করেছিলেন টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম বজলুল করিম চৌধুরী।দীর্ঘ নয় বছর পর সেই তালিপাম গাছে ফুল ফুটেছে।শনিবার (৩১ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তালিপাম গাছ দেখতে অনেকটা তাল গাছের মতোই। ঝড়ে এলে গাছটি যেন হেলে না পড়ে তার জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। গাছটির গোড়ার দিকে রডের তৈরি খাঁচা দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীর কোথাও আর বুনো পরিবেশে তালিপাম গাছ দেখা যায় না। ঢাবি ক্যাম্পাসে থাকা শেষ তালিপাম গাছটিও ফুল দিয়ে মরে গিয়েছিল ২০১০ সালে। তবে সেই গাছের ফল থেকেই চারা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।১৮১৯ সালে ভারতের পূর্বাঞ্চলে তালিপাম গাছের সন্ধান পেয়েছিলেন ব্রিটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলিয়াম রক্সবার্গ। পরে ঢাবির ফুলার রোডের পাশে ১৯৫০ সালে আরেকটি গাছ শনাক্ত করেন অধ্যাপক এম সালার খান। সে সময় পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে আরেকটি গাছ ছিল। সেই গাছে ১৯৭৯ সালে ফুল আসে। শতবর্ষী সেই গাছে হঠাৎ ফুল দেখে স্থানীয়রা চমকে যায়। ‘ভূতের আছর’ ভেবে ফল ধরার আগেই গাছটি কেটে ফেলেন তারা।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার ১৯৯৮ সালে ঢাবির গাছটিকে বুনো পরিবেশে বিশ্বের একমাত্র তালিপাম গাছ হিসাবে ঘোষণা করে। গাছটি লাগানো হয়েছিল ঢাবি প্রতিষ্ঠার আগে। ২০০৮ সালে এই গাছে ফোঁটে মরণফুল। জীবনচক্র মেনে ফুল থেকে ফল হয়। ২০১০ সালে মারা যায় গাছটি।

টাঙ্গাইলের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) দীপ ভৌমিক বলেন, গাছটি টাঙ্গাইলের সাবেক ডিসি এম বজলুল করিম চৌধুরী স্যারের সময় লাগানো। আমি যতটুক জানি, এ গাছটিতে ৯৯ বছরের আগে ফুল ধরে না। কিন্তু এই গাছটিতে অনেক আগেই ফুল ধরলো। রোপণ করার মাত্র নয় বছরেই ফুল দিয়েছে গাছটি।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মো. আতাউল গণি বলেন, গাছে দু’দিন আগে ফুল ফুটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাউব্রিড হওয়ার কারণে এতো আগে ফুল ফুটলো। গাছটি এক বার ফুল দেওয়ার পর আবার মারাও যাবে।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *