ফ্রি ফায়ার গেমস খেলতে ঘণ্টা হিসাবে মোবাইল ভাড়া

ফ্রি ফায়ার বিশ্বব্যাপী দৈনিক ৮০ মিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারীদের সঙ্গে একটি রেকর্ড তৈরি করে। গেরিনা বর্তমানে ফ্রি ফায়ারের উন্নত সংস্করণে কাজ করছেন যা ফ্রি ফায়ার ম্যাক্স নামে পরিচিত। নতুন খবর হচ্ছে, রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধে ভাড়ায় মিলছে ফ্রি ফায়ার গেমস খেলার মোবাইল। এ জন্য যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ভিডিও গেমসের দোকান। এ সব দোকানে ঘণ্টা হিসাবে মোবাইল ভাড়া দেওয়া হয়। স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেমসে ব্যস্ত থাকে। প্রতি ঘণ্টায় গেমসের মোবাইল ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। আর প্রতি গেমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

স্থানীয়রা বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ফ্রি ফায়ার গেমেসের প্রতি আসক্তি জন্মেছে। এ জন্য তারা যত্রতত্র গড়ে ওঠা ভিডিও গেমসের দোকানকে দায়ী করছেন। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার পল্লবীর ১১ নম্বর বাউনিয়াবাঁধ ঘুরে দেখা যায়, সুরভী স্কুল, আইডিয়াল হাইস্কুল ঘিরে এ-ব্লক, ই-ব্লক ও ডি-ব্লকে ৫০ টির মতো ফ্রি ফায়ার গেমস খেলার দোকান গড়ে উঠেছে। প্রত্যেক দোকানে ২৫-৩০ টি মোবাইল রয়েছে। ফ্রি ফায়ার খেলার জন্য এসব মোবাইল ঘণ্টা অথবা প্রতি গেম হিসাবে ভাড়া দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষার্থী খেলার টাকা জোগাড় করতে না পেরে বাসা থেকে টাকা চুরি করে।

টিফিন কিংবা জাম-কাপড় কেনার কথা বলে এ টাকা দিয়ে ফ্রি ফায়ার গেমস খেলে। এ জন্য মাঝেমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবার ও ভিডিও গেমস দোকান মালিকরা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। গত ২ দিন আগে বাউনিয়াবাঁধ এলাকার ভিডিও গেমসের সবচেয়ে বড় দোকান মালিক জুলহাসের সঙ্গে এক ভুক্তভোগী পরিবারের বচসা হয়। বাউনিয়াবাঁধ আইডিয়াল হাইস্কুলের সিনিয়র এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন মোবইলের গেমস খেলার দোকান বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

অনেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। অথচ সেখানে না গিয়ে দোকানে মোবাইলে গেমস খেলে। স্কুল বন্ধ থাকায় বাচ্চাদেরও ঠিকমতো শাসন করতে পারছি না। অভিভাকরা সতর্ক না হলে মোবাইলে গেমস খেলার আসক্তির কারণে তাদের মস্তিষ্ক ও চোখে বিরাট প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় বাসিন্দা রকি বলেন, বাউনিয়াবাঁধে গেমস খেলার জন্য মোবাইল ভাড়া পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা সারা দিন দোকানে বসে মোবাইলে গেমস খেলে। কি করবে স্কুল-কলেজ বন্ধ। অনেকে বাসা থেকে টাকা চুরি করে। সে টাকা দিয়ে এখানে মোবাইলে গেমস খেলে। অনেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বায়না ধরে টাকা আদায় করে এখানে আসে। অনেক সময় খেলতে খেলতে সারাদিন পার হয়ে যায়।

Check Also

৫ অক্টোবর ঢাবির হল খোলার সুপারিশ প্রভোস্ট কমিটির

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *