প্রভাবশালীদের নাম এলে অভিযান আর এগোয় না

ভুঁইফোড়’ সংগঠনের নেতাদের উৎপাত বন্ধে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাইছিলেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকে। শুরুও হয়েছিল হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মনির খান ওরফে দরজি মনিরকে আটকের মাধ্যমে। কিন্তু এরপর পরীমনিসহ বিনোদনজগতের কয়েকজনকে আটকের পর এই অভিযান কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন না আওয়ামী লীগের নেতারা। আগের মতো এই অভিযানও কিছু ‘স্ক্যান্ডাল’ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে থেমে যায় কি না, এই আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, এমনটা হলে এই অভিযান নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেবে। কিন্তু সরকারি দলের পরিচয় ব্যবহার করে যে সুবিধাবাদী চক্র গড়ে উঠেছে, সেটা এবারও ভাঙা সম্ভব হবে না।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কথা বলে নেতাদের এই মনোভাবের কথা জানা গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন সময় এ ধরনের অভিযান চালিয়েছে সরকার। প্রতিটি অভিযানের শুরুতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দু-একজন আলোচিত চরিত্র ধরা পড়ে। কিন্তু যারা ধরা পড়ে, তাদের পৃষ্ঠপোষক বা পেছনের শক্তিকে ধরার দাবি জোরালো হলে অভিযান থেমে যায়। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করে। চলে মাস দেড়েক। তখন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের মাঝারি কিছু নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ্য বেরিয়ে আসে। গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও ঠিকাদার জি কে শামীমসহ ১২-১৩ জনকে।

তাঁদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কোনো কোনো বড় নেতার নামও আলোচনায় আসে। পরে ওই অভিযান আর এগোয়নি।এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলোচনায় আসেন নরসিংদী যুবলীগের তৎকালীন জেলা সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া। তিনি গ্রেপ্তার হলে পাঁচ তারকা হোটেলে বসে তাঁর নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা প্রকাশ পায়। তাঁকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তখন তাঁকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পেছনে নরসিংদী ও ঢাকার বর্তমান ও সাবেক তিন সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় কোনো কোনো নেতার নাম আলোচনায় এসেছিল। সেই অভিযানও পাপিয়া ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কিন্তু পাপিয়ার উত্থান এবং অপকর্মে সহায়তাকারী কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা শোনা যায়নি। সম্প্রতি ফেসবুকে ‘চাকরিজীবী লীগ’ ও ‘নেতা বানানোর’ ঘোষণা দিয়ে ছবি পোস্ট করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। এরপর তাঁকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে গ্রেপ্তার হন ‘দরজি মনির’ নামে খ্যাত মো. মনির খান। তিনি ‌‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ এবং চিত্রনায়িকা পরীমনি, প্রযোজক নজরুল রাজসহ আরও কয়েকজনকে। সবার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মদ ও মাদক রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, প্রভাবশালী ও বিত্তবানদের নানাভাবে ‘ব্ল্যাকমেল’ বা ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করাই তাঁদের মূল অপরাধ। যদিও কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কারা এঁদের ফাঁদে পড়েছিলেন, সেটা প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সত্যতা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও নানাভাবে কিছু কিছু নাম আলোচিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, পরীমনি, পিয়াসা, নজরুল রাজসহ বিনোদনজগতের যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা ভুঁইফোড় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *