বাক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন সেই ধর্ষণকারী

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়ার দক্ষিণ গড়পাড়ার বাক প্রতিবন্ধী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী হা‌রিজ মিয়া বিষপানের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মারা গেছেন তি‌নি। ঘটনার আ‌গে হারিজ মিয়‌া র‌্যাব ও পুলিশের নজরদারিতে ছি‌লেন। র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়ার দক্ষিণ গড়পাড়ার ২৬ বছর বয়সী বাক ও শারিরিক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ করে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে একই গ্রামের হাজী মোঃ সামছুলের ছেলে হারিজ মিয়া (৪৩)।

কিন্তু ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হয়ে সে আত্মহত্যার জন্য বিষ পান করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ অবস্থায় ধর্ষণের ঘটনায় হারিজকে প্রধান আসামী করে ১৪ আগস্ট শ্রীবরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সনের (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। জামালপুর র‌্যাব-১৪ তাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পায় ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

সে যে কোন সময় হাসপাতাল থেকে পালাতে পারে এ আশঙ্কায় র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান ও স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এমএম. সবুজ রানার নেতৃত্বে ১৫ আগস্ট প্রথমার্ধের রাতে হাসপাতালে তাকে র‌্যাব-১৪ এর নজরদারিতে রা‌খে। প‌রে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভোর (রাত ৩-৪৫ মি:) হাসপাতালে যান এবং আসামী হারিজকে পু‌লি‌শের নজরদারিতে রাখেন। এ অবস্থায় ১৫ আগষ্ট রাত ১১টার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারিজ মারা যায়।

র‌্যাব- ১৪ সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান ব‌লেন, আসামী হারিজকে আমরা প্রথমে হাসপাতালে নজরদারিতে রাখি। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীকে নজরদারিতে রাখেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভূলক্রমে তাকে গ্রেফতারের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে তা গ্রেফতার না হয়ে নজরদারি হবে। এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার অ‌ফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চিকিৎসাধীন আসামীকে গ্রেফতার করি নাই। তাকে হাসপাতালে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিলো। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামীর মৃত্যু হয়েছে।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *