‘শ্বাসকষ্টে ছটফট করলেও কেউ এসে ছুঁয়েও দেখেনি’

টাকার সমস্যার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারিনি। একদিকে হৃদরোগ অপরদিকে ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালের চিকিৎসকরা জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। সিএনজি ভাড়া করে সেখানে নিয়ে যাই।’‘অক্সিজেন ছাড়া প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ছটফট করেছে। সারাদিন অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত ভর্তি নেয়নি। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক বা অন্য কেউ এসে রোগীকে একবারও দেখেনি।

সকালে চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এখানে এসে ভর্তির জন্য অপেক্ষা করছি। জানি না ভর্তি করাতে পারব কি-না।’ বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢামেক-২ করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সত্তরোর্ধ্ব নন-করোনা হৃদরোগী আনোয়ার হোসেন মজুমদারকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তির চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির কথা এভাবে বর্ণনা করছিলেন মেয়ে রণী আক্তার। এ সময় আনোয়ার হোসেনকে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে একবার বসে আরেকবার শুয়ে ছটফট করতে দেখা যায়।

মেয়ে রণী আক্তার একবার হাত ধরে তুলে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন, কিছুক্ষণ পর আবার সযত্নে শুইয়ে দিচ্ছিলেন। পাশে তার মা হতভম্ব হয়ে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছিলেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা রণী আক্তার জানান, তার বাবা একজন হৃদরোগী। গত ১০ জুলাই শ্বাসকষ্ট নিয়ে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও শ্বাসকষ্ট কমছিল না। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার হৃদরোগের সমস্যার পাশাপাশি ফুসফুসে পানি জমেছে।

তিনি জানান, দুই চিকিৎসা একসঙ্গে এ হাসপাতালে হবে না। তাকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে রেফার করে দেন। কিন্তু সেখানে দিনভর অপেক্ষা করলেও কেউ এসে দেখার প্রয়োজন মনে করেননি। বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসকরা মিটফোর্ডে রেফার করেন। সেখানেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় তারা প্রথমে ভর্তি রাখতে চাননি অনেক অনুরোধ করে রাতের জন্য ভর্তি ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। সকালে উঠেই রিলিজ লিখে ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। রণী আক্তার জানান,

এখানে তাদের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ভর্তির জন্য তদবির করা হচ্ছে। ভর্তি হতে না পারলে বাবা শ্বাসকষ্টে মারা যাবে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত আনোয়ার হোসেন মজুমদার ভর্তি হতে পেরেছেন।আনোয়ার হোসেন একা নন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত অসংখ্য নন-করোনা রোগীকে এ হাসপাতালে ভর্তি হতে মারাত্মক বেগ পেতে হচ্ছে। তদবির কিংবা হাসপাতালের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে বেড ফাঁকা থাকলেও ভর্তি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *