ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তালেবানকে বদলাতে হবে

রুদাবেহ্‌ শহীদ: তালেবান ২০ বছর পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, কিছু পরিবর্তন আসবে। তবে আফগানিস্তানে তালেবানের শাসন আগের মতো না–ও হতে পারে। কারণ, সেখানকার জনগণ তালেবান শাসনের আগের রূপ মেনে নেবে না। গত ২০ বছরে আফগান জনগণ নানা ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তালেবানের কাবুল দখলের আগপর্যন্ত আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট কার্যকর ছিল, সেখানে ৩৪টি প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। সেখানে নারী প্রতিনিধিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তালেবানের পক্ষে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। আমরা দেখলাম, আফগান টিভিতে নারীরা আবার খবর পড়তে শুরু করেছেন। আগের তালেবান শাসনের সময় দেশটি অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ ছিল। ফলে এবার তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থা ধরে রাখা। সেটা করতে গেলেও তালেবানকে বদলাতে হবে। আগের মতো হলে চলবে না।

নানা জাতিগোষ্ঠী ও গোত্রভিত্তিক আফগানিস্তানে তালেবানের পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কি আদৌ সম্ভব?

রুদাবেহ্‌ শহীদ: তালেবান মূলত একটি পশতু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। এর বাইরে তাজিক, উজবেক, হাজারাসহ নানা জাতিগোষ্ঠী রয়েছে এবং এসব জাতিগোষ্ঠীর অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে সবার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়া তালেবানের পক্ষে আফগানিস্তানের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব। আগের তালেবান শাসনের সময়ও এটা সম্ভব হয়নি। এবার এরই মধ্যে জালালাবাদে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। পাঞ্জশির প্রদেশ তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সীমান্তবর্তী অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে সেসব দেশের জাতিগোষ্ঠীর প্রাধান্য রয়েছে। আফগানিস্তান সব সময়ে এ অঞ্চলের বাফার স্টেট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে; একই সঙ্গে বিদেশি আগ্রাসী শক্তির কবর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ছাড়ার মধ্য দিয়ে সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আসলে আফগানিস্তানের ওপর কোনো সরকার কখনো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন
আফগানিস্তানের একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা কি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী? ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়েও তো জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

রুদাবেহ্‌ শহীদ: ভিন্ন ভিন্ন জাতি নিয়েও একটি জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ভারত বহু জাতির রাষ্ট্র। কিন্তু এসব জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে। কিছু সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা গড়ে ওঠে। আফগানিস্তান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিদেশি শক্তির হামলা, আক্রমণ ও দখলদারির শিকার হয়েছে। কার্যকর জাতিরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য একটি দেশের যে সময় লাগে, তা আফগানিস্তান পায়নি। প্রায় চার দশক ধরে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ চলছে। এমন পরিস্থিতি একটি জাতিরাষ্ট্র গঠনে সহায়ক নয়। এখন তালেবান আবার ক্ষমতায় এসেছে। তারা যদি পশতুন জাতীয়তাবাদের প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে সে সমস্যা থেকেই যাবে।

Check Also

৫ অক্টোবর ঢাবির হল খোলার সুপারিশ প্রভোস্ট কমিটির

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *