বেপরোয়া আমলাতন্ত্র’ শিরোনামে আ.লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাসে তোলপাড়

বেপরোয়া আমলাতন্ত্র, লজ্জিত আওয়ামী লীগ’—শিরোনামে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য নাজনীন আলম। ২১ আগস্ট রাত ১০টায় তিনি ফেসবুকে এ স্ট্যাটাস দেন। এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। ইতোমধ্যে এ আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাসে রিয়েক্ট করেছেন ১১ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী, মন্তব্য পড়েছে ১ হাজার ৩শর মতো।ফেসবুকে মন্তব্যের বিষয়টি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেন নাজনীন আলম।তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা এখন প্রশাসনের নিকট জিম্মি হয়ে পড়ছে। কোনো কাজে গেলে দলীয় নেতাকর্মীরা সহযোগিতা পাচ্ছেন না; বরং প্রশাসনের নিকট কোণঠাসা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

এ আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মেদ মোজাম্মেল হক নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী। তিনি লেখেন— ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই, একটার পর একটা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বরিশালে যা হয়েছে তা ছিল অ্যাসিড টেস্ট। এখনই যদি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা না যায়, আগামীতে আরও বড় বড় অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে। তাই আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মীকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।মো. সুজাত সরকার নামে একজন লিখেছেন— ‘আমলাদের লাগাম টেনে না ধরলে চরম খেসারত দিতে হবে। তাদের ব্যবহার এতটা খারাপ হয়েছে যে, দলীয় পরিচয় দিলে মনে হয় তাদের গা জ্বলে। ‘বেপরোয়া আমলাতন্ত্র, লজ্জিত আওয়ামী লীগ!’ শিরোনামে নাজনীন আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো—

‘জুজুর ভয় দেখিয়ে ও দলকে ভুল বুঝিয়ে ২০১৮-এ আওয়ামী লীগের সহজ বিজয়ের নির্বাচনে বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়ার (বিশেষ সুবিধা নিয়ে) কারিগর ছিলেন একজন প্রয়াত উপদেষ্টা ও তার আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট। নির্বাচনকে বিতর্কিতসহ দল ও এমপিদের হেয়/কোণঠাসা করতে মাঠপর্যায়ে অতি উৎসাহিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের গায়ে কাঁদা লাগাতে তারা সচেষ্ট ছিলেন। কুমন্ত্র দিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র সব নেতাকে সাইড লাইনে বসিয়ে রেখে তিনি একাই খেলে যচ্ছিলেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাজনীতিবিদদের নিষ্ক্রিয় রাখতে সব আয়োজনই করেছিলেন সেই উপদেষ্টা।

২০১৪-এর সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই কিছু সরকারি কর্মকর্তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েন। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারগুলোতে কৌশলে আওয়ামী বিরোধীদের বসিয়েছেন তারা। সাধারণ জনগণকে উনারা মানুষ বলেই মনে করেন না। সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী, নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিসহ কাউকেই তারা পাত্তা দিতে চান না। আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা তাদের কাছে নাজেহাল হতে থাকে রীতিমতো। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ক্ষমতার দাপট দিনে দিনে বেড়েই চলেছে; যেন আওয়ামী লীগের মাঝা ভেঙে দিতে এক জঘন্য খেলায় মেতেছেন তারা। দলীয় কোনো ব্যক্তির অপরাধকে অতিরঞ্জিতভাবে মিডিয়াতে প্রচার করে আওয়ামী লীগকে হেয় করতে তৎপর রয়েছেন তাদের অনেকেই; এত উন্নয়নের পরেও মাঠেঘাটে জননন্দিত দল আওয়ামী লীগকে গালি খেতে হচ্ছে।

Check Also

আরও ২ মামলায় জামিন পেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে রাজধানীর গুলশান থানায় মাদক ও পল্লবী থানায় প্রতারণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *