শ্যালিকাকে বিয়ে করলেন দুলাভাই, চোখের জলে সংসার ছাড়লেন দুই সন্তানের জননী স্ত্রী

দোয়ারাবাজারে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শ্যালিকাকে ঘরে তুললেন এক প্রবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সামসুদ্দিনের পুত্র কুয়েত প্রবাসী হাফিজ মাওলানা রশীদ আহমদ প্রায় ৯ বছর পূর্বে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে স্বপ্না

বেগমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার পর রশীদ আহমদ কুয়েতে পাড়ি জমান। সেখানে থেকেই আপন শ্যালিকা আকলিমা বেগম (২১) এর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সম্পর্ক গোপন থাকলেও একপর্যায়ে জানাজানি হয়ে যায়। গত ঈদুল আজহার আগে বড় বোন স্বপ্না বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে আকলিমা বেগম। এখানে থাকাবস্থায় অন্যত্র তার

বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হলেও দুলাভাই হাফিজ রশীদ আহমদ সুকৌশলে তাকে জিম্মি করে রাখে।এর কিছুদিন পরেই প্রবাসে থেকেই স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাক দিয়ে দেয় এবং শ্যালিকাকে বিয়ের প্রচেষ্টা চালায়। এর আগে স্বপ্না বেগমের বড় ভাই জাকারিয়া বিষয়টি নিষ্পত্তি

এবং তার ছোট বোন আকলিমা বেগমকে উদ্ধারের জন্য দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু হাফিজ রশীদ আহমদ কুয়েত থাকা অবস্থায় স্থানীয় মাতব্বরদের সহায়তায় কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাক দিয়ে দেয় তার স্ত্রীকে। দুই সন্তানের জননী স্বপ্না বেগম বলেন,

আমার দুটি সন্তান রয়েছে। আমি আমার স্বামীর সংসার করতে চাই। কিন্তু আমার কাছ থেকে চাচা শশুর বাবুল মিয়া তালাকনামায় জোরপূর্বক দস্তখত নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দুটি সন্তান রেখে আমি এখন বাঁচবো কী করে! দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবদুলাল ধর বলেন, এ ব্যাপারে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে

একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে দেখলাম প্রবাসীর স্ত্রীর মানসিক সমস্যা থাকায় পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শ্যালিকাকে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। শ্যালিকাও স্বেচ্ছায় তার বোন জামাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানান। পরে যারা অভিযোগ দিয়েছিল তারা এ বিষয়ে আর যোগাযোগ করেনি।

Check Also

অনলাইন থেকে শুক্রাণু কিনে ‘ই-বেবি’র জন্ম দিলেন নারী

সন্তান পেতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু এই কারণে বাধ্য হয়ে কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাননি ৩৩ বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *