সম্পদে ধনী আফগানরা যখন দরিদ্র

আফগানিস্তানের অর্থমন্ত্রী কারি দীন মোহাম্মদ হানিফ বলেছেন, তাঁদের সরকার আগের সরকারের মতো বিশ্বের কাছ থেকে সাহায্য ও সহযোগিতা চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ২০ বছর ধরে পুরোনো ব্যবস্থায় সমর্থন জুগিয়ে গেছে। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হয়েছে।

জটিল অর্থনীতি চালানোর অভিজ্ঞতা হানিফের নেই। তালেবানের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কাজে তিনি তাঁর জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন আফগানিস্তান ও কাতারে। তবে প্রথম তালেবান আমলে হানিফ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। হানিফ তাঁর বক্তব্যে ঠিক জায়গাটাই ধরেছেন। হামিদ কারজাই ও আশরাফ গনির আমলে শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সত্ত্বেও তাঁরা আফগান জনগণের মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তাঁদের শাসন এবং মার্কিন দখলদারির ২০ বছর পরও এখন তিনজন আফগানের মধ্যে একজনের খাবার জোটে না। ৭২ শতাংশ মানুষ সেখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ–সুবিধা পায় না।

বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কোনো কাজেই আসেনি। আফগানিস্তানের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হানিফ সংখ্যালঘু তাজিক সম্প্রদায়ের। উত্তর-পুবের বাদাখশান প্রদেশের বাসিন্দা তিনি। ২০০১ সালে তালেবানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলা সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল।

২০০৯-২০১১ পর্যন্ত ইউএসএআইডির তহবিল থেকে আসা সহযোগিতার ৮০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলে। এই অঞ্চল আগে থেকেই ছিল তালেবানের ঘাঁটি। মার্কিন সিনেটের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এমনকি সহযোগিতার এ টাকাও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের বদলে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নানা কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়েছে।

Check Also

আবরারের পরিবারকে ১২ বছর মাসিক ৭৫ হাজার টাকা দেবে বুয়েট!

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আগামী ১২ বছরের জন্য নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *