শুধু জানা গেল শনাক্ত হওয়া যুবক ‘ভবঘুরে’

কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন শহরের দ্বিতীয় মুরাদপুরের লস্করপুকুরপাড়ের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন। পূজামণ্ডপের আশপাশের বিভিন্ন বাসা–প্রতিষ্ঠান ও শহরের কয়েকটি এলাকার ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এটি নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বয়সে তরুণ ইকবাল ‘ভবঘুরে ও মাদকাসক্ত’—এমন তথ্যও দিচ্ছে পুলিশ।

তবে ইকবাল কেন পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখতে গেলেন—এ প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই। পুলিশের ধারণা, ইকবালকে দিয়ে অন্য কেউ এই কাজ করিয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও এমনটা মনে করছেন। কে বা কারা পেছনে থেকে এই কাজ করিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী—এসব প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে?

বিজ্ঞাপন
এদিকে ইকবাল হোসেন নামের এক যুবককে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন গত রাত সাড়ে ১১টায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে মনে করছি, আটক ব্যক্তিই কুমিল্লার ইকবাল। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’

কুমিল্লার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় দুজন নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইকবাল নিজে থেকে ওই কাজ করার কোনো কারণ আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। স্থানীয় কিছু মানুষ নানুয়া দীঘির পাড়ে পূজামণ্ডপ থাকুক, তা চাইছিলেন না। তাঁদের মধ্যে ঘটনার পর ফেসবুকে প্রথম বিষয়টি প্রচার (লাইভ) করা মো. ফয়েজও আছেন। একটা কিছু ঘটিয়ে পুজামণ্ডপটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তাঁরা দুজন মনে করেন, আগামী বছরের শুরুতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন কেউ কেউ। এর বাইরে জাতীয়-আন্তর্জাতিক রাজনীতির অংশ হিসেবে ষড়যন্ত্রও থাকতে পারে। কোনটি প্রকৃত সত্য, সেটি পুলিশকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হবে।

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি শিবপ্রসাদ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পেছনে কে বা কারা, তাঁদেরও শনাক্ত করতে হবে। ইকবালকে জীবিত গ্রেপ্তার করা দরকার। তাঁর কাছ থেকে মূল তথ্য উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তদন্তের জন্য প্রয়োজনে আরও সময় নিক পুলিশ।

Check Also

অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সিডনিতে মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটছে। ইতিমধ্যে পাঁচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *