আবাসিক হলের সিট নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ, ‘অসহায়’ প্রাধ্যক্ষরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে কোন শিক্ষার্থী কোন সেশনে পড়েন, কবে হল ছাড়বেন কিংবা হলের কোন সিট খালি আছে, তা খোঁজ রাখার দায়িত্ব নিয়েছে ছাত্রলীগ। সেই অনুযায়ী সিট ফাঁকা হলেই তা ছাত্রলীগের দখলে চলে যায়। এরপর সেই সিট ‘বিক্রি’র অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি হল প্রশাসন ফাঁকা সিটে কোনো শিক্ষার্থীকে তুলে দিলে তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

করোনার কারণে দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর ১৭ অক্টোবর আবাসিক হল খুলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই দীর্ঘ সময়ে স্নাতকোত্তর কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার পথে রয়েছে, এমন অনেক সিট খালি হচ্ছে। হল খোলার পর থেকেই ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা সিট–বাণিজ্যে মেতেছেন। এ নিয়ে অভিযোগ দিলেও প্রাধ্যক্ষরা তেমন কার্যকর ভূমিকায় যেতে পারছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসানের মা–বাবা কেউ নেই। সবশেষ করোনার সময়ে তিনি তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। তাঁর পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর থেকে। প্রাধ্যক্ষকে বুঝিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪৯ নম্বর কক্ষে সিট পেয়েছিলেন। হলের আবাসিকতা পাওয়ায় তিনি মেসের সিটও ছেড়ে দিয়েছেন। এই অবস্থায় গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার হলে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর জন্য নির্ধারিত সিটে তিনি উঠতে পারেননি। জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এই সময়ে পরীক্ষার জন্য পড়বেন নাকি হলের সিটের জন্য লড়াই করবেন—কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রাধ্যক্ষ তাঁকে ধৈর্য ধরতে বলেছেন। তিনিই তাঁকে কিছুদিন পর নিজে গিয়ে নির্ধারিত সিটে তুলে দেবেন আশ্বাসে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি হল থেকে বের হয়ে যান।

Check Also

আবরারের পরিবারকে ১২ বছর মাসিক ৭৫ হাজার টাকা দেবে বুয়েট!

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আগামী ১২ বছরের জন্য নিহত বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *